আইজাক নিউটনঃ কালের সেরা পদার্থবিদ Isacc Newton

আইজাক নিউটন একজন সফল পদার্থবিদ, গণিতবিদ, প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং আলকেমিস্ট। তিনি সর্বজনীন মহাকর্ষ ও গতির তিনটি সূত্র আবিষ্কার করে ;পদার্থবিজ্ঞানে নতুন এক ধ্যান ধারানা প্রদান করেন।

জন্ম

আইজ্যাক নিউটন জন্মগ্রহণ করেছিলেন (তখন ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে) ক্রিসমাস দিবসে, ২৫ ডিসেম্বর ১৬৪২ (৪ জানুয়ারি ১৬৪৩), “মধ্যরাতের এক বা দুই ঘন্টা পরে”, উলস্টর্প-বাই-কোলস্টারওয়ার্থের উলস্টর্প ম্যানরে, লিঙ্কনশায়ার কাউন্টির একটি গ্রাম। তার বাবা, আইজ্যাক নিউটন নামেও তিন মাস আগে মারা গিয়েছিলেন। অকালে জন্ম নেওয়া নিউটন ছিলেন ছোট শিশু; তার মা হান্না আইসকফ বলেছেন যে তিনি একটি কোয়ার্ট মগের ভিতরে ফিট করতে পারতেন। নিউটনের বয়স যখন তিন, তখন তার মা পুনরায় বিয়ে করেন এবং তার নতুন স্বামী রেভারেন্ড বার্নাবাস স্মিথের সাথে বসবাস করতে যান এবং তার ছেলেকে তার মাতামহী মার্জারি আইসকফের যত্নে রেখে যান।

নিউটন তার সৎ বাবাকে অপছন্দ করতেন এবং তাকে বিয়ে করার জন্য তার মায়ের প্রতি কিছু শত্রুতা বজায় রেখেছিলেন, যেমনটি ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত করা পাপের তালিকায় এই এন্ট্রির দ্বারা প্রকাশ পায়: “আমার বাবা এবং মা স্মিথকে তাদের এবং তাদের উপর বাড়ি পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেওয়া।” [১৪] নিউটনের দ্বিতীয় বিয়ে থেকে তার মায়ের তিনটি সন্তান (মেরি, বেঞ্জামিন এবং হান্না) ছিল।

প্রায় বারো বছর বয়স থেকে তিনি সতেরো বছর বয়স পর্যন্ত, নিউটন দ্য কিংস স্কুল, গ্রান্থাম-এ শিক্ষিত হন, যেটি ল্যাটিন এবং প্রাচীন গ্রীক শেখাতো এবং সম্ভবত গণিতের একটি উল্লেখযোগ্য ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তাকে স্কুল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং অক্টোবর ১৬৫৯ সালের মধ্যে উলস্টর্প-বাই-কোলস্টারওয়ার্থে ফিরে আসেন। তার মা, দ্বিতীয়বার বিধবা, তাকে একজন কৃষক করার চেষ্টা করেছিলেন, এমন একটি পেশা যা তিনি ঘৃণা করেছিলেন। দ্য কিংস স্কুলের মাস্টার হেনরি স্টোকস তার মাকে তাকে স্কুলে ফেরত পাঠাতে রাজি করান। আংশিকভাবে স্কুলের আঙ্গিনায় উত্পীড়নের প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, তিনি শীর্ষস্থানীয় ছাত্র হয়ে ওঠেন, প্রধানত সানডিয়াল এবং উইন্ডমিলের মডেল তৈরি করে নিজেকে আলাদা করেন।

জুন ১৬৬৭ সালে, তিনি তার চাচা রেভ উইলিয়াম আইসকফের সুপারিশে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন, যিনি সেখানে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি একজন সাবসাইজার হিসাবে শুরু করেছিলেন – ভ্যালেটের দায়িত্ব পালন করে তার পথ পরিশোধ করা – যতক্ষণ না তিনি ১৬৬৪ সালে একটি বৃত্তি লাভ করেন, যতক্ষণ না তিনি তার এমএ না করতে পারেন আরও চার বছরের গ্যারান্টি দিয়েছিলেন।

সেই সময়ে কলেজের শিক্ষাগুলি অ্যারিস্টটলের উপর ভিত্তি করে ছিল, যাদের নিউটন ডেসকার্টসের মতো আধুনিক দার্শনিক এবং গ্যালিলিও এবং টমাস স্ট্রিটের মতো জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সাথে সম্পূরক ছিলেন, যাদের মাধ্যমে তিনি কেপলারের কাজ সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন।

যান্ত্রিক দর্শন সম্পর্কে “Quaestiones” সিরিজের তিনি এটি খুঁজে পেয়েছেন। ১৬৬৫ সালে, তিনি সাধারণীকৃত দ্বিপদ উপপাদ্য আবিষ্কার করেন এবং একটি গাণিতিক তত্ত্ব তৈরি করতে শুরু করেন যা পরে ক্যালকুলাসে পরিণত হয়। নিউটন আগস্ট ১৬৬৫ সালে তার বিএ ডিগ্রী অর্জন করার পরপরই, গ্রেট প্লেগের বিরুদ্ধে সতর্কতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যদিও তিনি কেমব্রিজের ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, নিউটনের উলস্টথর্পে তার বাড়িতে পরবর্তী দুই বছরে তার প্রাইভেট অধ্যয়নের সময় ক্যালকুলাস, অপটিক্স এবং মহাকর্ষের নিয়মের ওপর তার তত্ত্বের বিকাশ দেখা যায়।

এপ্রিল ১৬৬৭ সালে, তিনি কেমব্রিজে ফিরে আসেন এবং অক্টোবরে ট্রিনিটির একজন ফেলো নির্বাচিত হন। ফেলোদের নিযুক্ত যাজক হওয়ার প্রয়োজন ছিল, যদিও এটি পুনরুদ্ধারের বছরগুলিতে প্রয়োগ করা হয়নি এবং চার্চ অফ ইংল্যান্ডের সাথে সামঞ্জস্যের দাবি যথেষ্ট ছিল। যাইহোক, ১৬৭৫ সালের মধ্যে বিষয়টি এড়ানো যায়নি এবং ততক্ষণে তার অপ্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তা সত্ত্বেও, দ্বিতীয় চার্লসের বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে নিউটন এটি এড়াতে সক্ষম হন।

তার অধ্যয়ন লুকাসিয়ান অধ্যাপক আইজ্যাক ব্যারোকে প্রভাবিত করেছিল, যিনি তার নিজস্ব ধর্মীয় এবং প্রশাসনিক সম্ভাবনা বিকাশের জন্য আরও উদ্বিগ্ন ছিলেন (তিনি দুই বছর পরে ট্রিনিটির মাস্টার হয়েছিলেন); ১৬৬৯ সালে নিউটন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন, তাঁর এমএ পাওয়ার এক বছর পর। তিনি ১৬৭২ সালে রয়্যাল সোসাইটির (এফআরএস) ফেলো নির্বাচিত হন।

স্নাতক পড়া কালীন তিনি বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন। তার মাধ্যে রয়েছে কৌণিক বিভাজন, বিভিন্ন জ্যামিতিক সমস্যা, বক্রসমূহের বর্গকরণ, লেন্সের ত্রুটি ইত্যাদি। স্নাতক পাশ করার আগেই ;আবিষ্কার করেন দ্বিপদী উপপাদ্য বিষয়ক সূত্র।

এরপর মহামারী প্লেগ দেখা দিলে তিনি তার খামার বাড়ি লিংকনশায়ারে চলে যান। সেখানে তিনি চালিয়ে যান তার গবেষণার কাজ। এখানেই তিনি আলোক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা করেন। আলোক বিজ্ঞান নিয়ে তিনি বলেন ১৬৬৫ ও ১৬৬৬ এই দুই সাল; আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ; কেননা এ দুই বছরে উদ্ভাবন ও মনকেন্দ্রিক গণিত ও দর্শন চিন্তার; বিকাশ ঘটেছিল।

আরো পড়তে পারেন হাসান সাব্বাহ- গুপ্তঘাতকের সূচনা যার হাতে

বলবিজ্ঞান ও মহাকর্ষ বিষয়কে তিনি নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। ১৬৭৯ সালের দিকে এ নিয়ে তিনি তার নিজস্ব গবেষণায় আত্ননিয়োগ করেন। কেপলারের সূত্রকে তিনি তথ্যসূত্র; হিসেবে ব্যাবহার করেন ও রর্বাট হুক ;এবং জন ফ্লামস্টিডের সাথে আলোচনা করেন।

আবিষ্কার

১৬৮৭ সালের ৫ জুলাই তিনি তার ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস; প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা নামক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। এটি প্রকাশে সহায়তা করেন বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি। এই বইয়ে তিনি গতির তিনটি মৌলিক সূত্র সম্পর্কে লেখেন। বস্তুসমূহের মধ্যবর্তী বলকে গ্রাভিটাস নামে উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে যা মহাকর্ষ বল নামে পরিচিতি লাভ করে। নিউটন এর উপর আর একটি সূত্র আবিষ্কার করেন যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। এই সূত্র দুটিই নিউটনকে সর্বকালের সেরা পদার্থবিদদের স্থানে নিয়ে যায়। প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি পেতে শুরু করেন।

গণিতে নিউটন এক নতুন শাখার জন্ম দিয়েছিলেন লাইবনিৎসকে সাথে নিয়। যা আজ ক্যালকুলাস নামে পরিচিত সবার কাছে। দ্বিপদী উপপাদ্য সহ অনেক; জটিল জ্যামিতির সমাধান দিয়েছিলেন নিউটন।

জীবনে চলার পথে সমালোচিত হয়েছেন কয়েকবার। স্টিফেন হকিংস তার লেখায় নিউটনকে ধুরন্দর ও মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যা নিয়ে প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলো।

যতই সমালোচিত হন না কেন এটা মানতেই হবে ;নিউটন ছিলেন সর্বকালের সেরা পদার্থবিজ্ঞানী। ৷ ১৭২৭ সালের আজকের দিনে (৩১ মার্চ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার কাজের মাধ্যমে বিজ্ঞানপ্রেমীদের কাছে বেচেঁ থাকবেন চিরকাল।

আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইক দিন নববহ্নি পেজ এ

Isacc Newton
Isacc Newton law
1 Newton ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *