আব্রাহাম লিংকন- আমেরিকার কিংবদন্তি এক প্রেসিডেন্ট

আব্রাহাম লিংকন

আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ তম রাষ্ট্রপতি। দাস প্রথার চরম বিরোধী লিংকন আমেরিকার দাসদের স্বাধীনতা প্রদান করেছিলেন। তিনি কেন্টাকি রাজ্যের কাউন্টির দক্ষিণ- পূর্বের এক বাড়িতে ১২ ফ্রেব্রুয়ারি ১৮০৯ সালে কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা ও মা দুজনে কৃষি কাজ করতেন। ৯ বছর বয়সে তার মা এক অদ্ভুদ দুগ্ধজাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় বলে খবর ছড়ায়। পরে জানা যায় গাভীটি কোন এক বিষাক্ত ঘাস বা পাতা খেয়েছিল যা থেকে এমন হয়েছে। মা মারা যাবার পর জীবনে আগমন ঘটে তার সৎ মায়ের। সৎ মায়ের সাথে সম্পর্ক খারাপ ছিল না তার। পড়াশুনার ব্যাপারে তিনি তাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।

লিংকন একজন স্বশিক্ষিত ব্যাক্তি। তিনি জীবনের বেশির ভাগ সময় নিজেই পড়াশুনা করেছেন। সব মিলিয়ে মাত্র ১৮ মাস ছিল তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকাল। তার যা দরকার হয়েছিল তিনি তা নিজেই পড়ে নিয়েছিলেন। কোন আইনি ডিগ্রি না থাকার পরেও ওকালতি করেছেন ;এবং ১৮৪৯সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি কেসে হেরে যান।

ব্যর্থতা ছিল তার প্রথম জীবনে নিত্য সঙ্গী। জীবনে দারুণ সফল এই ব্যাক্তিটি প্রথম জীবনের ভাগে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হন। পরের বছরই রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং আইন সভার নির্বাচনে ভীষণভাবে পরাস্ত হন। ২৬ বছর বয়সে তার প্রিয়তমা স্ত্রী মারা যায়। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হলেও ভেঙ্গে পড়েন নি। ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেসের নির্বাচনে হেরেই ক্ষান্ত হন নি। জীবনের এই ব্যর্থতা তাকে আরো জেদি করে তোলে। ৪৫ বছর বয়সে আবার দাড়ান সাধারণ নির্বাচনে সেটাও হেরে যান। এখানেই ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনেটের নির্বাচন মিলে আরো দুই বার পরাজিত হন। তবুও তিনি হাল ছেড়ে দেন নি। কারণ তিনি পরিশ্রমি ও কর্মতৎপর ছিলেন। শেষমেষ ৫২ বছর বয়সে আবার দাড়ালেন সাধারণ নির্বাচনে। এবার তার ধৈর্য ও কর্মতৎপরতার ফল পেলেন। তার কাজের মাধ্যমে হয়ে উঠলেন আমেরিকার৷ সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট।

আরো পড়তে পারেন মুহাম্মদ আলীঃ দ্য পিপলস চ্যাম্পিয়ন March 16, 2021

১৮৫৮ সালে তিনি সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের হয়ে ডগ্লাসের কাছে হেরে যান। এ সময় কৃতদাস প্রথা সম্পর্কে ;এক বিতর্ক ও ডগ্লাসের সাথে তার বিরোধিতার ফলে লিংকন অল্প দিনের মধ্যেই খ্যাতি লাভ করেন। কারণ তিনি ছিলেন কৃতদাস প্রথার বিপক্ষে। ফলে ১৮৬০ সালে তিনি সধারণ নির্বাচনে জয় লাভ করেন শক্তিশালী ডেমোক্রেটিক দলকে হারিয়ে।

১৮৬১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র সই করার মধ্য দিয়ে; লিংকন দাস প্রথা বিলুপ্ত করেন। যা আমেরিকার মানুষ মেনে নিতে পারেনি।তারা বিভক্ত হয়ে আলাদা রাজ্য গঠন করে আমেরিকাকে বিভক্ত করে। পরে যা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ১-৩ জুলাই পেনসেলভানিয়ার গেটিসবার্গে ৮ হাজার মানুষ মারা যায়। ১৯ নভেম্বর তাদের স্মরণে আব্রাহাম লিংকন এক সংক্ষিপ্ত ও দুনিয়া কাপানো ভাষণ দেন। মাত্র ২ মনিটের ২৭২ শব্দের এই ভাষণটি গেটিসবার্গ স্পিচ নামে পরিচিত।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উক্তি
জনগনের সরকার জনগনের; দ্বারা জনগনের জন্য।
আমি হাসি কারণ; আমি কাদলে চলে না।
বুলেটের চেয়ে ব্যালট শক্তিশালী।
গোলাপ গাছে কাঁটা থাকে; আমরা অভিযোগ করতেই পারি ;কিন্তু কাঁটাওয়ালা গাছে গোলাপ জন্মে এটা ভেবে আনন্দিত হতে পারি।

আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইক দিন নববহ্নি পেজ এ

Check Also

চেঙ্গিস খান

চেঙ্গিস খান ও মঙ্গোলদের উত্থান

চেঙ্গিস খান মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং; যা তিনি ১২০৬ সাল থেকে ১২২৭ সাল পর্যন্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *