ইলুমিনাতি কি; জানুন রহস্যময় এই গুপ্তসংঘের অজানা ইতিহাস

বর্তমান সময়ে ইলুমিনাতির নাম শোনেনি ; এমন কাউকে হয়ত কমই পাওয়া যাবে। এটি এমন এক সংঘ যেটি অদ্ভুত সব তথ্য দিয়ে থাকে। যদিও এর সাথে বাস্তবের কোন মিল আছে কিনা তা নিয়ে; অনেকে সন্দেহ পোষন করে। তাদের কথ্য তারাই পৃথবীর সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক তাদের ইতিহাস সম্পর্কে।

ইলুমিনাতি সংগঠনের উৎপত্তি জার্মানির ব্যাভারিয়াতে। ১৭৭৬ সালের ১ মে অ্যাডাম ওয়েইশপ্ট(খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত) এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন ইঙ্গলস্ট্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাথলিক গির্জা আইন বিভাগের অধ্যাপক। সংগঠনের প্রথম সদস্য ছিল তার চার জন ছাত্র। সংগঠনের প্রতীক ছিল আউল অব মিনার্ভা অর্থাৎ গ্রিক দেবী মিনার্ভার পেচাঁ।

১৭৭৮ সালে সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইলুমিনাতি। তার আগে নাম ছিল Bund der perfektibilistem.ইলুমিনাতি শব্দের অর্থ হলো যারা কোন বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখে। তাদের সংগঠনের সদস্য ছিল ১৮-৩০ বছরের সচ্চরিত্র খ্রিষ্টান যুবকেরা। নারীরা নিষিদ্ধ ছিল এই সংঘে।

ধীরে ধীরে ইউরোপে বিস্তার লাভ করতে থাকে। সংগঠনের বিরোধীরা অভিযোগ করলো যে ইলুমিনাতি একটি নাস্তিক সংঘ। বিষয়টি ইউরোপে ভাল ভাবেই ছড়িয়ে পড়লো। ফলে ব্যাভারিয়ার শাসক চালর্স থিওডোর সকল গুপ্ত সংঘ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন। অ্যাডাম পালিয়ে গেলেও ইলুমিনাতির প্রচুর নথিপত্র সরকারের হাতে আসে ;এবং পরে তা সরকার জনসম্মুখে প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ইতিহাস সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যায় না।

আরো পড়তে পারেন হাসান সাব্বাহ- গুপ্তঘাতকের সূচনা যার হাতে

আধুনিক যুগের ইলুমিনাতি

তারা একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় ; যেখানে অভিজাতদের একটি কর্তৃত্ববাদী দল শাসন করবে;এবং কোন জাতির অধীনে দেশগুলি নির্বাসিত হবে। পর্যায়ক্রমে, এটি ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ, যা ১৯৬০ এর দশকে শুরু হয়েছিল।

ডেভিড ব্রামওয়েল, যিনি আদুনিক যুগে তাদের খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। তার মতে, আধুনিক যুগের ইলুমিনাতি কিংবদন্তি ওয়েইশাপ্ট দ্বারা নয় ;বরং ১৯৬০ এর পাল্টা সংস্কৃতি, এলএসডি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।ডেভিড তা বিশেষ এক বইতে ; প্রিন্সিপিয়া ডিসকর্ডিয়া নামে একটি লেখা থেকে এ ধারণা দেন।

বইটি ডিসকর্ডিয়ানিজম নামক এক প্রকার; যা এক ধরনের নৈরাজ্যবাদ প্রচার করেছিল ;এবং ডিসকর্ডিয়ান নামক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কৌতুক এবং প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিক ;অবাধ্যতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। ডিসকর্ডিয়ানিজমের কিছু অনুসারীরা পত্রিকায় ভুয়া চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেছিল যে; মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যার মতো ঘটনাগুলি ইলুমিনাতির কাজ।

একটি শক্তিশালী আধুনিক ইলুমিনাতির ধারণা;বিশ্বকে শাসন করার ষড়যন্ত্র করছে। ১৯৯০ এর দশক পর্যন্ত মুষ্টিমেয় লোকদের কাছে এই বিশ্বাস বজায় ছিল। যদিও বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে সব পরিবর্তিত হয়েছে। ইন্টারনেট ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের একটি বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে তাদের বিশ্বাসকে ব্যাখ্যা করতে এবং তাদের প্রমাণ একটি বিশাল দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করতে। নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার কীভাবে কাজ করে ;সে সম্পর্কে তত্ত্বগুলি অপেক্ষাকৃত সহজ ধারণার সাথে ; শুরু থেকেই একেবারে মিল নেই।

সংগঠনের প্রভাব আছে কিনা তা প্রমাণের জন্য, ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকরা পাবলিক বিভিন্ন চিহ্নকে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ইলুমিনাতির সাথে সবচেয়ে বেশি যুক্ত প্রতীকগুলির মধ্যে রয়েছে ত্রিভুজ, পেন্টাগ্রাম, ছাগল ও মার্কিন ব্যাঙ্কের নোটগুলিতে প্রদর্শিত নম্বর-৬৬৬। আরেকটি বিষয়কে সাধারণভাবে ইলুমিনাতি প্রতীক হিসেবে ধরা হয়; যা মার্কিন মুদ্রায় প্রদর্শিত হয়, তথাকথিত আই অফ প্রভিডেন্স, যা বলা হয় মানবতার উপর ইশ্বরের সর্বজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে।

যারা নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের তত্ত্বে বিশ্বাস করে তারা এটা মানে যে একটি অভিজাত গোষ্ঠী পৃথিবী শাসন করার চেষ্টা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের পাশাপাশি, বেশ কয়েকজন পপস্টারকে সদস্য হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে বিয়ন্সে এবং জে-জেড। দুজনই দাবি অস্বীকার করেছেন।

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে,
বিশ্বের সকল প্রধান ঘটনা ইলুমিনাতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের সূচনাও ইলুমিনাতির হাতে হয়েছিল।
শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করা।
ইহুদিদের মতে, ইলুমিনাতির এক চোখা প্রমাণ করে তারা দাজ্জালের আগমনের পথ সুগম করেছে।
নেপোলিয়ানের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে ইলুমিনাতি।

গুপ্তসংঘ ইলুমিনাতির উদ্ভব সম্পর্কে কেউ পরিষ্কার নয়। তবে নতুন পৃথিবী গড়া তাদের মূল লক্ষ্য হলেও আপাতত দৃষ্টিতে ;তারা ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ধর্মীয় স্খলন দ্বারাই তা প্রকাশ পায়।

নতুন করে বর্তমান সময়ে এটি আবার আলোচিত হতে শুরু করেছে ;ড্যান ব্রাউন এর অ্যাজ্ঞেলস অ্যান্ড ডিমনস উপন্যাসের মাধ্যমে। মানুষ মনে করে থাকে ইলুমিনাতি সদস্যরা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এর কোন বাস্তব প্রমাণ নেই।

আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইক দিন নববহ্নি পেজ এ

Check Also

পহেলা বৈশাখ

বাংলা পহেলা বৈশাখ ও বাঙালির চেতনা ও সংষ্কৃতি

বাংলা পহেলা বৈশাখ লোক সমাজের সাথে নাগরিক জীবনের সেতুবন্ধন পহেলা বৈশাখ। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জীবনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *