কীর্তিমানের মৃত্যু নেই; বাংলা ভাবসম্প্রসারণ


Table of Contents

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই

মূলভাবঃ

মানুষ মরণশীল হলেও কর্মের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করা সম্ভব। বেঁচে থাকার অর্থ জৈবিকভাবে বেঁচে থাকা নয়, বরং অমরত্ব লাভ করা। মানুষের সংক্ষিপ্ত জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং স্মরণীয় করে রাখতে হলে নেক আমল তথা ভাল কাজের কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রসারিত ভাবঃ

মৃত্যু অনিবার্য, এটা চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তার ভালো কাজের মাধ্যমে চিরকাল মহিমান্বিত হতে পারে। তাই যারা বিখ্যাত তারা তাদের সেবামূলক কাজের মাধ্যমে বহু যুগ ধরে মানবসমাজে টিকে আছেন। এই নশ্বর জগতের সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। অর্থাৎ পৃথিবীতে কোনো মানুষ চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। তাই দীর্ঘজীবী হওয়া বড় কথা নয়, কারণ এটি অমরত্ব নিয়ে আসে না। মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করে। কর্ম তাকে চিরকাল বেঁচে রাখে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে। অর্থাৎ যারা নিঃস্বার্থভাবে দানশীলতায় আত্মনিয়োগ করেন, মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন- তারা মৃত্যুর পরেও মানুষের মধ্যে অমর হয়ে থাকেন। এইভাবে বিখ্যাত ব্যক্তিরা তাদের ভাল কাজের জন্য অমরত্ব পান। এই মানুষগুলো শারীরিকভাবে মারা গেলেও আসলে তারা অমর। তারা সর্বদা মানুষের হৃদয়ে বিদ্যমান। মানুষ তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনধারা যুগ যুগ ধরে ঘরে ঘরে মানুষের পথপ্রদর্শক হয়ে আসছে। তাই তাদের মৃত বলে মনে হয় না।

মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে, বয়সের জন্য নয়। কত কোটি কোটি মানুষ এসেছে এই পৃথিবীতে। কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর তাদের কেউ মনে রাখেনি। তারা ভেসে গেছে। কিন্তু মানুষের সেবায় যে মহামানবেরা প্রাণ দিয়েছেন তারা অমর। তাই সক্রেটিস, প্লেটো, গ্যালিলিওর মতো বিখ্যাত ব্যক্তিরা অনেক আগে মারা গেলেও তারা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে আছেন।

মন্তব্যঃ

নশ্বর জগতে মানুষ তার কর্মের গুণে অমর। মানব কল্যাণে অতিবাহিত জীবন মানুষের মনে চিরকাল বেঁচে থাকে। আসলে জীবনের সফলতা এখানেই নিহিত
বাংলা ভাবসম্প্রসারণ
আরো পড়তে পরেন বাংলা রচনা; গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাংলা রচনা সমগ্র
বই পড়া অনুচ্ছেদ(৩টি অনুচ্ছেদ) বই পড়া অনুচ্ছেদ রচনা
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই

মূলভাব:

কাজ মানুষকে পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখে, তাদের বিখ্যাত এবং স্মরণীয় করে তোলে। বেশি বা অধিক বয়স মানুষকে স্মরণীয় করে রাখার কোনো পরিমাপক হিসেবে কাজ করে না। মহামানবেরা পৃথিবী থেকে শারীরিকভাবে মারা গেলেও থেকে যায় তার মহান কাজ। আর এই মহত্ত্ব কাজগুলিই সেই সব মানুষের খ্যাতি ও গৌরবের সাক্ষ্য বহন করে।

সম্প্রসারিত ভাব:

মানুষের জীবন বয়স দ্বারা পরিমাপ করা যায় না। এমনকি যদি একজন ব্যক্তি দীর্ঘ জীবন যাপন করে এবং তার জীবনের কোন অংশে যদি কোন ভাল কাজ না করে তবে সেই জীবন অর্থহীন। অর্থহীন এই জীবন নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মানুষ তাকে বেশিদিন মনে রাখে না। নীরবে পড়ে যায় এ জীবন। কিন্তু যে ব্যক্তি তার স্বল্প জীবনকে দেশ, জাতি ও সমগ্র বিশ্বের কল্যাণে ব্যবহার করে তার জীবন সফল। এই সফল জীবন তার মহান কাজের জন্য প্রায়ই স্মরণ করা হয় এবং প্রশংসিত হয়। মানুষ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। এই অবদান বা গৌরব বয়স দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কবি সুকান্ত বয়সে নয়, কর্মের মহৎ গুণে অমরত্ব লাভ করেছেন। কাজী নজরুল ইসলাম দীর্ঘকাল বেঁচে ছিলেন। কিন্তু ৪০ বছর বয়সের পর তার বাকশক্তি ছিল না। কিন্তু মহান সাহিত্য সাধনায় তিনি যে মহান কাজটি ব্যয় করেছেন তার জন্য তিনি গর্বিত। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নজরুল শুকতারা তাঁর বয়সের জন্য নয়, তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্মের জন্য বিখ্যাত। অন্যদিকে কবি সুকান্ত মাত্র একুশ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু এত অল্প সময়ে বাংলা সাহিত্যে যে অবদান রেখে গেছেন তার জন্য তিনি কখনোই মরবেন না। তিনি চিরস্থায়ী। এরকম অনেক জ্ঞানী দার্শনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগণিত অবদান রেখেছেন। তারা কখনই হারিয়ে যাবে না। তারা তাদের মহান কাজের জন্য পৃথিবীতে স্মরণীয় এবং প্রশংসিত হবে।
একজন মানুষ বড় বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকলেও যদি সে সেই সময়টাকে দারুণভাবে কাজে না লাগায়, তাহলে সেই কোণে কোনো স্থায়ী মূল্য নেই। অতএব, এটি বয়স নয়, মহান কাজ যা একজন ব্যক্তিকে বিখ্যাত করে তোলে। বয়স মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর কর্ম মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়। কর্ম তার মৃত্যুর পরেও মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

মন্তব্যঃ

তাই বলা যায় কর্মের মাধ্যমেই মানুষ বেঁচে থাকে হাজার বছর; বয়সের জন্যে নয়।

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই

আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইক দিন নববহ্নি পেজ এ
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *