বাঙালির মুক্তির সনদ; ছয় দফা আন্দোলন

Table of Contents

ছয় দফা

ছয় দফা ; ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের পর পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী; বাঙালীদের উপর শুরু থেকেই শোষণ ও বৈষম্য নীতি চালাতে থাকে। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ এর শাসনন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বৈষম্য নীতি দেখতে পাওয়া যায়। যার প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি; লাহোরে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বঙ্গবন্ধুর সেই উত্থাপিত ছয় দফা বাঙালীকে মুক্তি ও স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছিলো। এ আন্দালনের পথ ধরেই জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের।সূচনা করছিল এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের। এই ৬ দফার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগ ;এর ডাকে হররতাল পালিত হয়। হরতালে পুলিশ ইপিয়ার নির্বিচারে গুলি চালায় নিরীহ মানুষের উপর। এতে ১১ জন শহীদ হয়।

আরো পড়তে পারেন মার্কিন মুলুকে যেসব পরিবর্তন

তবে এরও আগে ছয় দফা পেশ করার পর ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তনি পত্র-পত্রিকায়; বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরূপে দেখানো হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন ও ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ ;এর সভায় ছয় দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়।

ছয় দফা

১৮ র্মাচ আমাদের বাচার দাবি ছয় দফা নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। ২০ র্মাচ আইয়ুব খান ঢাকায় বলেনঃ দেশের অথন্ডতা বিরোধী কোন প্রচেষ্ঠা সরকার সহ্য করবে না। প্রয়োজনে অস্ত্রের মুখে জবাব দেওয়া হবে।

২৩ র্মাচ বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিক ভাবে ৬ দফা ঘোষণা করেন। ৮ মে নারায়ণগঞ্জের সভা থেকে আসার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় ;ও ৯ মে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ৭ জুন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হরতাল কর্মসূচী দেয় আওয়ামী লীগ। এতে ১১ জন বাঙালী শহীদ হয়। তাদের স্মরণ করতেই ৭ জুন ছয় দফা দিবস পালন করা হয়। উল্লেখ্য ৬ দফার পর বঙ্গবন্ধু ১৩১৬ দিন কারাগারে ছিলেন।

চলুন দেখে আসা যাক ছয় দফার দাবিগুলো

১.শাসনতান্ত্রিক কাঠামো

লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান হবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্র । প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত আইন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে সংসদীয় সরকার গঠনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

২.কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা

অঙ্গরাজ্যের বা প্রদেশের হাতে প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক ব্যতীত সকল ক্ষমতা থাকবে। উল্লিখিত দুটি থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ।

৩.মুদ্রা সম্পর্কিত ক্ষমতা

পাকিস্তানের দুটি অঞ্চলে জন্য পৃথক অথচ ;অবাধ বিনিময় যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে । অথবা সমগ্র দেশে একটি মুদ্রা ব্যবস্থা থাকবে;সেজন্য একটি ফেডারেল ব্যাঙ্কের অধীনে কার্যকরী ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৪.রাজস্ব, কর ,শুল্ক সমন্ধীয় ক্ষমতা

শুল্ক ধার্য করার ক্ষমতা থাকবে প্রদেশএগুলোর হাতে তবে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যয় নির্বাহের জন্য এর একটি অংশ পাবে

৫.বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক ক্ষমতা

পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পৃথক হিসাব রাখা হবে । অর্জিত মুদ্রার নিয়ন্ত্রণ থাকবে প্রদেশের হাতে। আঞ্চলিক সরকার যেকোনো চুক্তি সম্পাদন করতে পারবে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈদেশিক নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ।

৬.আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা

নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অঙ্গরাষ্ট্রসমূহ প্যারামিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তুলতে পারবে ।

আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইত দিন নববহ্নি পেজ এ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *