নাগারনো কারাবাখ কি ? কেন আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে এ নিয়ে?

Table of Contents

নাগারনো কারাবাখ

নাগারনো কারাবাখ কি? প্রায় আমরা এই প্রশ্ন দেখতে পাই বিভিন্ন প্রশ্নপত্রে বা অনলাইনে। নাগারনো কারাবাখ শব্দটির অর্থ পার্বত্য কালো বাগান । যা দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের দুটি দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মাঝখানে অবস্থিত একটি অঞ্চল । আর্মেনীরা এটিকে আর্টসাখ এবং আজারীরা দাগলিক্ব কারাবাগ বলে । পৃথিবীর বুকে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে এই দাগলিক্ব কারাবাগ অন্যতম ।

দ্বন্দ

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের পর যে ১৫ টি নতুন রাষ্ট্রের ; সৃষ্টি হয় তার মধ্যে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে । কিন্তু আজারবাইজানের সীমানার মধ্যে নাগরনো কারাবাখ অঞ্চলটি অমীমাংসীত থেকে যায় । কেননা আর্মেনীয়রা অঞ্চলটিকে তাদের বলে দাবী করে । কারন অঞ্চলটিতে খ্রীষ্টানদের প্রাচীন গীর্জা অবস্থিত; আর এটিকে কেন্দ্র করে অনেক খ্রীষ্টান আর্মেনীদের বসবাস । অপরদিকে এখানকার শুসা অঞ্চল যেখানে মুসলিম আজারীদের বসবাস প্রাচীনকাল থেকে । যার কারনে অঞ্চলটিতে উভয় পক্ষই কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চায় ; এবং উভয় পক্ষই যুদ্ধ বিগ্রহে লেগেই থাকে ।

২০১৭ সালে রুশ সাম্রাজ্যের পতন হয় । এরপর ২০১৮ সালে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং; নাগারনো কারাবাখ এর কর্তৃত্ব নিয়ে দু পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে । ২০২১ এটিকে সায়ত্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষনা করা হয় ; এবং আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ হিসেবে চিন্হিত করা হয় । ১৯৮৮ সালে সোভিয়েত শাসন দুর্বল হয়ে পরলে এই অঞ্চলে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পরে ।

আরো পড়তে পারেন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও ১৫ নতুন রাষ্ট্র

১৯৯১ সালে ইউএসএসআর এর পতন হলে; আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় । ৩ বছরের যুদ্ধে ৩০০০ জন প্রাণ হারায় ; এবং ১০ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পরে । ১৯৯৪ সালে উভয়ের মধ্যে শান্তিচুক্তি হয় । কিন্তু তা আর স্থায়ী হয় নি ২০০৬ সালে আবারও ; সেনা মোতায়েন নিয়ে ৪ দিনের যুদ্ধ হয় ।

নাগারনো কারাবাখ কি

২০১৯ সালে তুরস্ক লিবিয়া ও সিরিয়ায় শান্তি রক্ষার জন্য সেনা মোতায়েন করে । অপরদিকে রাশিয়া তাদের বিপরীতে সেনা মোতায়ন করে ; এর জের ধরে তুরস্ক আজারবাইজানকে তাদের সমর্থন দিতে থাকে । ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আবারও উভয় দেশ যুদ্ধে জরিয়ে পরে ; পরিস্হিতি খুবই খারাপ হলে রাশিয়া মধ্যস্থতা করে শান্তি আনার চেষ্ঠা করে ।

ফলশ্রুতিতে শুশা ও ৩ টি অঞ্চলসহ আরও ৭ টি এলাকা আজারবাইজান এর অধীনে ; এবং বাকি অঞ্চল আর্মেনিরাকে দেয়া হয় । শান্তি রক্ষার জন্য রাশিয়া ২০০০ সেনা মোতায়েন করে ।

আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইক দিন নববহ্নি পেজ এ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *