বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ ও বড়াইবাড়ি আক্রমণ

Table of Contents

ভূমিকা

২০০১ সালে এপ্রিলে সীমান্ত দখল নিয়ে বিডিআর বিএসএফ এর মধ্যে; সংঘর্ষ হয়। ১৬- ২০ এপ্রিলের ভিতরেই বিএসএফ এর সাথে তিনটি যুদ্ধ হয়। এর দুটি হয় সিলেটের পাদুয়া সীমান্তে ;ও আরেকটি কুড়িগ্রামের রৌমারির বড়াইবাড়ি সীমান্তে। তিনটি যুদ্ধেই বাংলাদেশের সে সময়ের বিডিয়ারের সেনারা বিজয় লাভ করে।

বিতর্কিত অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি ছিল বাংলাদেশ ও; ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তের পাদুয়া; গ্রামের কাছাকাছি একটি ছোট জমি নিয়ে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তির সময় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করেছিল ;মুক্তিবাহিনী নামে পরিচিত জাতিগত বাঙালি গেরিলাদের প্রশিক্ষণের জন্য; জায়গাটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই গ্রামের আধিকাংশ লোক ছিল খাসিয়া সম্প্রদায়ের।

কারণ

১৯৪৭ এর দেশভাগের সময় বাংলাদেশ ;ও ভারতের মধ্যে কিছু এলাকা অমীমাংসিত থেকে যায়। এর মধ্যে সিলেটের পাদুয়ার কাছাকাছি এক থন্ড ভূমি; যার পরিমাণ ২৩০ একর। ভরতীয় বাহিনী এ এলাকা নিজের বলে দাবি করতে থকে। ১৯৭১ সালে তারাা সেখানে একটি ক্যাম্প স্থাপন করেছিলো। পাদুয়া গ্রামটি ভারতীয় অধ্যুসিত হলেও আইনগত ভাবেই এটি ছিল বাংলাদেশের মালিকানাধীন। বাংলাদেশ অভিযোগ করে আসছিলো যে, ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের এলাকা পাদুয়ায়; বিএসএফ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

বিডিয়ার এর তথ্য থেকে জানা যায়; বিএসএফ তাদের পাদুয়ার ক্যাম্প থেকে ১০ কি.মি. দূরে অন্য ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য; একটি রাস্তা বানিয়েছিলো নো ম্যান’স ল্যান্ডে যা বাংলঅদেশের সীমানার মধ্যে পড়েছিল। বাংলাদেশের বারবার নিষেধ সত্বেও বিএসএফ কাজ বন্ধ করে নি। ফলে ২০০১ সালের ১৫ ও ১৬ এপ্রিল বিএসএফ বিডিয়ার যুদ্ধ হয়। বিডিয়ার জয় লাভ করে ও শক্তি বৃদ্ধি করে পাদুয়া দখল করে নেয়।

এই পরাজয়ের বদলা নিতে বিএসএফ পাদুয়া থেকে ৮০ কি.মি. দূরে কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ি সীমান্তে ১৮ এপ্রিল অন্যায়ভাবে হামলা চালায়। বিডিয়ারের সুকৌশলে ও গ্রামবাসীর সহায়তায় এ যুদ্ধেও জয়লাভ করে বাংলাদেশ। এ ঘটনার আগে বিডিয়ারের বড়াইবাড়ি কমান্ডারকে পতাকা বৈঠকের জন্য ;রহস্যজনক এক চিঠি পাঠিয়েছিল বিএসএফ। তবে কমান্ডারের কাছে চিঠিটি সন্দেহজনক হওয়ায় বাতিল করে দেন এ বৈঠক।

বড়াইবাড়ি সীমান্ত
আসলে তাদের উদ্দেশ্য ছিল পতাকা বৈঠকের জন্য যাওয়া বিডিয়ার সদস্যদের ভারতীয় সীমানা থেকে অপহরণ করা। পরে জানানো হত বিডিয়ার সদস্যরা ভারতীয় সীমানায় ঢুকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে, পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু বিডিয়ারের পক্ষ থেকে কেউ না যাওয়ায় ভেস্তে যায় তাদের পাতানো ফাঁদ। আর এ বৈঠকে গেলে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনায় সফল হয়ে যেত।

আরো পড়তে পারেন জন ডিলিঞ্জার ; এফবিআই তালিকায় জনগনের ১ম শত্রু

আক্রমণ

বিডিয়ারের পক্ষ থেকে বৈঠকে সারা না পাওয়ায় তারা চূড়ান্ত আক্রমনের সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েকশত বিএসএফ ও ভারী অস্ত্র সহ আক্রমনের প্রস্তুতি নেয়। সেই রাতে লাল মিয়া নামের একজন ব্যাক্তি ভোর রাতে সেচ দিতে গিয়ে দেখতে পান, বিএসএফ শতশত সদস্য সাঁজোয়া যান ও অনেক ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী সীমানা পেরিয়ে বড়াইবাড়ি আক্রমন করতে যাচ্ছে। এ সময় একজন বিএসএফ সদস্য তাকে বিডিয়ার ক্যাম্পের ঠিকানা জানতে চাইলে; সে ক্যাম্পের মত দেখতে একটি পরিত্যাক্ত বাড়ি দেখিয়ে দেয় ও দ্রুত ক্যাম্পে গিয়ে খবর দেয়।

পাল্টা জবাব

খবর পেয়ে বিডিয়ারের সদস্যরা গ্রামবাসীদের নিরাপদে সরিয়ে নেন। সকাল বেলা বিএসএফ আক্রমণ করে ক্যাম্পে। কিছুক্ষণ পর বিডিয়ারের ১০ জন সদস্য পাল্টা গুলি শুরু করলে যুদ্ধ শুরু হয়। বিডিয়ার সদস্যরা মেশিনগান ব্যবহার করে। এই মেশিন গান দিয়ে মিনিটে ৭০০ গুলি বের হত। হঠাৎ আক্রমণে বিএসএফ দিশেহারা হয়ে পড়ে। গুলিতে মাটিতে পড়তে থাকে বিএসএফ। সেদিন বিএসএফের এলোপাথারি গুলিতে ৩ জন বিডিয়ার শহীদ হন বিপরীতে ১৬ জন বিএসএফ নিহত হয় বলে জানা যায়। তবে বেসরকারী ও স্থানীয়দেরি তথ্য মতে সেদিন বিএসএফ তিনশোর বেশি নিহত হয়।

খবর পেয়ে পাশের ক্যাম্প থেকে ; বিডিয়ার সেনারা আসতে থাকে। তারা পৌছালে বিএসএফ পিছু হটতে শুরু করে। ভূমি ত্যাগ করার আগে বিএসেএফ সদস্যরা মর্টার শেল দিয়ে কিছু বাড়ি ;ও খামার ধ্বংস করে। তবে মুনুষ জন আগেই নিরাপদে সরে যাওয়ায় কারো ক্ষতি হয় নি।

উভয় সরকার অবস্থার মধ্যে হস্তক্ষেপে; বাংলাদেশি এবংভারতীয়রা তাদের আসল অবস্থানে ফিরে আসে এবং আগের স্থিতাবস্থা পুনরুদ্ধার করে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের জন্য উভয় পক্ষ দুঃখ প্রকাশ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলেও; ২০ এপ্রিল মধ্যরাতে দুই সীমান্তের সীমান্তে গুলিবর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের বিডিয়ার সদস্যরা বাস্তবিকই সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন। মাত্র ১০ জন সদস্য নিয়ে তারা যে আক্রমন প্রতিহত করেছে তা নজির বিহীন। বাংলাদেশ সরকার সে সময় এই অভিযানকে বিডিয়ার কমান্ডারদের; দুঃসাহসিকতা হিসেবে অভিহিত করেছে। স্যালুট জানাই সেই তিন শহীদকে যারা এ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল । বিনম্র শ্রদ্ধা তাদের প্রতি।

আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইক দিন নববহ্নি

Check Also

কনস্ট্যান্টিনোপল-জয়

উসমানীয়দের কনস্টান্টিনোপল বিজয়; এক অবিস্মরনীয় যুদ্ধের ইতিকথা

উসমানীয়দের কনস্টান্টিনোপল বিজয়; এক অবিস্মরনীয় যুদ্ধের ইতিকথা। অবিভক্ত রোমান সম্রাজ্যকে একত্রিত করে ; রোমান সম্রাট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *