বাংলা পহেলা বৈশাখ ও বাঙালির চেতনা ও সংষ্কৃতি

Table of Contents

বাংলা পহেলা বৈশাখ

লোক সমাজের সাথে নাগরিক জীবনের সেতুবন্ধন পহেলা বৈশাখ। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জীবনে ধারণ করে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করতে ;উৎসাহী বিশ্বের হাজারো বাঙালী প্রাণ। নতুন বছর সবার জন্য কল্যাণকর হয়ে উঠুক এই আমাদের সবার প্রত্যাশা।বাংলা এই সনের সূচনা ঘটে সম্রাট আকবরের হাতে ১৫৮৪ থ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ। তবে এটি আগে ফসলি সন নামে পরিচিত ছিল। ১৫৫৮ সালে সম্রাট আকবরের ফরমান জারির মাধ্যমে আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলী সন চালু হয়। এই সন এই বর্তমানে প্রচলিত বাংলা সন। হিজরী চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ;ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। পহেলা বৈশাখ বাংলা বর্ষের প্রথম মাসের প্রথম দিন। বাঙালীর হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে লালিত করে; পহেলা বৈশাখ এক অসাম্প্রদায়িক উৎসবের দিন। অতীতের সকল দুঃখ ,হতাশা ও গ্লানিকে; মুছে ফেলে দিয়ে নতুন করে শুরু করার দিন। সবার উন্নতি ও সমৃদ্ধির কামনায় আনন্দঘন পরিবেশে; উদযাপিত হয় বছরের প্রথম দিন।

নতুন বছরের প্রথম দিন উদযাপনের সাথে বাঙালীর ; হাজার বছরের কৃ্ষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক। হাজার বছরের ঐতিহ্যের চেতনায় বাঙালী হারিয়ে যায় বাধ ভাঙ্গা উল্লাসে। সর্বজনীন ও স্থানীয় এ দুধরনের অনুষ্ঠানে ফুটে ওঠে বাঙালীর লোক-সংস্কৃতির চিরাচরিত ধারা। পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ খাওয়ার রীতি গ্রামীণ সমাজ থেকেই চলে আসছে। তাছাড়াও দেখা যায় বৈশাখী মেলা, হালখাতা, গম্ভীরা , বলীখেলা, লাঠিখেলা, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই, হা-ডু-ডু খেলা। শহরের পহেলা বৈশাখে এইসব দেখা যায় না বললেই চলে। শহরের মূল আকর্ষণ রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের উৎসব। এর মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় তারা। ১৯৬৭ সাল থেকে পালন হয়ে আসছে ছায়ানটের এ অনুষ্ঠান। ঢাকার বৈশাখী উৎসবের আরেকটি আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা।

পহেলা বৈশাখ

পহেলা বৈশাখ
পহেলা বৈশাখ

বাংলাদেশের জনগণের লোকজ ঐতিহ্যের প্রতীক মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৮৫ সালে যশোরে চারুপীঠ নামে ; এক সংগঠন প্রথম বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা আয়োজন করে। সেই শোভাযাত্রার পর ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ;আয়োজন করে প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রা। ১৯৯৫ সালের পর এই শোভাযাত্রার নাম হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে অধরা সাস্কৃতিক ঐতিহ্যের তলিকায় স্থান দেয়। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব বৈসাবী। এ উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক মারমাদের কাছে সাংগ্রাই, চাকমাদের কাছে বিজু। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরাতেও পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। চিত্রাই নামে উৎসব পালন করে তামিলরা। চৈত্রের রুদ্র পরিসমাপ্তি শেষে বাংলার ঘরে ঘরে ;নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে মানুষ। নব আলোর শিখায় প্রজ্বলিত হয়ে শুরু হবে; আগামী দিনের সূচনা এই প্রত্যাশায়।

….

পহেলা বৈশাখ
পহেলা বৈশাখ

আরো পড়তে পরেনশীতের সকাল অনুচ্ছেদ; অনুচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদ রচনা1

আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইক দিন নববহ্নি পেজ এ

Check Also

কনস্ট্যান্টিনোপল-জয়

উসমানীয়দের কনস্টান্টিনোপল বিজয়; এক অবিস্মরনীয় যুদ্ধের ইতিকথা

উসমানীয়দের কনস্টান্টিনোপল বিজয়; এক অবিস্মরনীয় যুদ্ধের ইতিকথা। অবিভক্ত রোমান সম্রাজ্যকে একত্রিত করে ; রোমান সম্রাট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *