বাক্য কাকে বলে। অর্থ ও গঠন অনুসারে কত প্রকার ও কি কি

Table of Contents

বাক্য কাকে বলে

যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি বা শব্দ দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তখন তাকে বাক্য বলে।

কতগুলো পদ মিলে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিকেই বাক্য বলা যাবে না। বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হতে হবে, তবেই তা বাক্য হবে। ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই। যেমন –

(১) আকাঙ্ক্ষা
(২) আসত্তি
(৩) যোগ্যতা

পদার্থ কাকে বলে । বৈশিষ্ট্য; মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ কোনটি।১০ টি বৃহত্তম দেশ
বাংলাদেশের আয়তন কত ২০২২ অনুযায়ী জেনে নিন
মৌলিক সংখ্যা কাকে বলে। মৌলিক সংখ্যা কতটি
পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালো মানুষ কে

বাক্য কাকে বলে

১. আকাঙ্ক্ষা :

বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। যেমন – ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় : চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে…

আসত্তি :

মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে একটার পর একটা সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশে বাধাগ্রস্ত না হযতে হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব সকলে আমাদের পরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে। যেমন – কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা :

বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন – বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। – এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে। কিন্তু ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।’ – বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার :

 সরল বাক্য,
 মিশ্র বা জটিল বাক্য,
 যৌগিক বাক্য।

বাক্য কাকে বলে
বাক্য কাকে বলে

১. সরল বাক্য :

যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) বিদ্যমান থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

পুকুরে পদ্মফুল জন্মে। এখানে ‘পদ্মফুল’ উদ্দেশ্য এবং ‘জন্মে’ বিধেয়। এ রকম : বৃষ্টি হচ্ছে। তোমরা বাড়ি যাও। খোকা আজ সকালে স্কুলে গিয়েছে। স্নেহময়ী জননী (উদ্দেশ্য) স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন (বিধেয়)।
বাক্য কাকে বলে

২. মিশ্র বা জটিল বাক্য :

যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ

ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যথা

আশ্রিত বাক্য প্রধান খণ্ডবাক্য

১. যে পরিশ্রম করে, সেই’ সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে, তা’ তার মুখ দেখেই বুঝেছি।

৩. যৌগিক বাক্য :

পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ বাকা মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

জ্ঞাতব্য : যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলেf এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন – নেতা জনগণকে উৎসাহিত’ করলেন ঠিকই, কিন্তু’, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি কারো’ দ্বারস্থ হব না।

বাক্য কাকে বলে

অর্থ অনুসারে বাক্য নিম্নলিখিত কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত হতে পারে।

১. বিবৃতিমূলক বাক্যঃ সাধারণভাবে হ্যাঁ বা না বাচক বাক্য। বিবৃতিমূলক বাক্য দুই প্রকার হতে পারে : হ্যাঁ বাচক বাক্য () এবং না বাচক বাক্য
উদাহরণ- হ্যাঁ বাচক বাক্য : সে ঢাকা যাবে। আমি বলতে চাই ।
না বাচক বাক্য : সে ঢাকা যাবে না। আমি বলতে চাই না।

২. প্রশ্নসূচক বাক্যঃ এ ধরনের বাক্যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয় । যথা :
কোথায় যাচ্ছ? কী পড়ছ? কেন এসেছ? যাবে নাকি?

৩. বিস্ময়সূচক বাক্য : যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে। যথা :

বাক্য কাকে বলে
বাক্য কাকে বলে
তাজ্জব ব্যাপার! সমুদ্রের সে কী’ ভীষণ গর্জন।
আমি’ তো ভয়ে মরি!
হুররে, আমরা জিতেছি!

৪. ইচ্ছাসূচক বাক্যঃ এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়। যথা :

তোমার মঙ্গল হোক’।
ঈশ্বর তোমাকে জয়ী করুন’।
পরীক্ষায় সফল হও’।
দীর্ঘজীবী হও’।

৫. আদেশ বাচক বাক্য : এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
শিক্ষক মহোদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে।
চুপটি করে বস।
উঠে দাঁড়াও ।
দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।
বাক্য কাকে বলে

নববহ্নি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *