ভাবসম্প্রসারণ; দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য

আজ আমরা বিভিন্ন পাবলিক এবং স্কুলের পরীক্ষায় চলে আসা গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাবসম্প্রসারণ নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করছি শিক্ষার্থীরা লেখাটি থেকে উপকৃত হবে। আজকের লেখাটি হলোঃ দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ।

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাবঃ অন্যের ক্ষতি করাই দুষ্টের স্বভাব। তাই একজন শিক্ষিত ব্যক্তির চরিত্র না থাকলে তার সঙ্গ পরিহার করা উচিত। কারণ এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিদগ্ধ মানুষ সুজন না হলে তার সান্নিধ্য কাম্য বলে বিবেচিত হয় না।

সম্প্রসারিত ভাবঃ মানব বিরোধী বিদ্বেষ দুষ্টের নিত্য সঙ্গী। এই ধরণের ব্যক্তির নৈতিক চরিত্র দুর্বল, তারা ব্যবহারে অভদ্র, চিন্তায় তরল। তাদের দ্বারা কোন সমাজ, দেশ বা জাতি উপকৃত হয় না। এগুলো সমাজের কলঙ্ক। তারা আত্মকেন্দ্রিক, লোভী এবং স্বার্থপর। কিছু খারাপ লোক আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত, কিন্তু বাস্তবে তারা জ্ঞানী নয়। তাদের শিক্ষা সনদ একটি কাগজ ছাড়া আর কিছুই নয়। সার্টিফিকেট-সমস্ত শিক্ষা এদেশে চরিত্র ও মানসিকতার কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। তারা শিক্ষিত হওয়ার সাথে সাথে আরও ভয় পায়। অধিক ধূর্ত ও ধূর্ত হয়ে সহজ সরল মানুষকে ধোঁকা দেয়। তাদের সঙ্গে সততার মৃত্যু হয়। মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ তার চরিত্র। মানুষের এই বৈশিষ্ট্যগুলি বজায় রেখে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের বিকাশ করা প্রয়োজন। একইভাবে আলেম হওয়াও একটি গুণ। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়। বিজ্ঞান মানুষের মনের চোখ খুলে দেয়। মানব জীবনের সাফল্যে বিজ্ঞানের অবদান রয়েছে। কোনো আলেমের সংস্পর্শে এলে মনে জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে। কিন্তু বিদ্বান ব্যক্তি চরিত্রহীন হলে তার জ্ঞানের কোনো মূল্য নেই, সে তার জ্ঞানের অপব্যবহার করে। তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ বা ভ্রান্ত উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নিতে যে কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে। চরিত্রহীন ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করে জীবনে কোন কল্যাণ সাধিত হয় না। তাই খলনায়ক পণ্ডিত হলেও তার সঙ্গ ও সঙ্গ ত্যাগ করাই ভালো।

মন্তব্যঃ বিদ্বান অথচ চরিত্রহীন ব্যক্তিকে অবশ্যই ত্যাগ করা উচিত। কারণ বিদ্বান হলেও তার কাছে গেলে নিজের চরিত্র নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য
দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য

একই ভাবসম্প্রসারণ অন্য বই থেকে সংগ্রহ করে দেওয়া হলোঃ

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য

আরো পড়তে পারেনমানবকল্যাণে বিজ্ঞান রচনা; বাংলা রচনা(২টি রচনা)
বই পড়া অনুচ্ছেদ(৩টি অনুচ্ছেদ) বই পড়া অনুচ্ছেদ রচনা

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাবঃ জ্ঞান মানুষকে মানবতা অর্জনে সহায়তা করে। তবে একজন ব্যক্তি আলেম হলেই যে চরিত্রবান হবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর চরিত্রহীন ব্যক্তি আলেম হলেও তাকে পরিহার করতে হবে।

প্রসারিত ভাবঃ শুধু মানুষের ঘরে জন্ম নিলেই মানুষ মানবিক গুণাবলীর অধিকারী হয় না। জন্মের পর মানবতা অর্জন করতে হয়। বিজ্ঞান মানুষকে মানবিকতা অর্জনে সহায়তা করে। এ কারণেই মানুষ জীবনের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সময় ব্যয় করে। পণ্ডিতরা সর্বত্র সম্মানিত। সবাই তাকে মান্য করে। তাই জ্ঞান যে মূল্যবান তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু চরিত্র তার চেয়ে বেশি মূল্যবান। চরিত্র মানুষের সাধনার ফল। সাধনার জন্য প্রয়োজনীয় তপস্যা; এটি মানুষের প্রবৃত্তিকে তীক্ষ্ণ করে, বুদ্ধিকে তীক্ষ্ণ করে, আচার-আচরণকে প্রশস্ত করে, হৃদয়কে প্রশস্ত করে, মনকে শক্তিশালী করে, শরীরকে সুস্থ ও সবল করে। চরিত্র মানুষের মানবতার ঢাল। সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা আলেম হলেও চরিত্রহীন। এসব চরিত্রহীন আলেম সমাজে খারাপ মানুষ হিসেবে পরিচিত। সমাজের সবাই তাকে পরিত্যাগ করে।
কারণ এই দুষ্ট লোকেরা নিজেদের স্বার্থে অন্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে দ্বিধা করে না। তারা জ্ঞানকে মুখোশ হিসাবে ব্যবহার করে। এসব লোকের সান্নিধ্যে গেলে ভালোর পরিবর্তে মন্দের সম্ভাবনাই বেশি থাকে। চরিত্রহীন পন্ডিত সাপের মত উগ্র ও বিষাক্ত। একটি প্রবাদ আছে যে বিষাক্ত সাপের মাথায় মূল্যবান রত্ন থাকে। একটি বিষধর সাপের মাথার মণি এবং চরিত্রহীন ব্যক্তির জ্ঞান প্রায় সমার্থক। রত্ন লাভের আশায় বিষাক্ত সাপের সংস্পর্শে কেউ আসে না। কারণ বিষধর সাপের ধর্ম মরে। দুধ খাইয়ে দিলেও সুযোগ পেলেই ছোবল মারবে। মৃত্যু অনিবার্য। চরিত্রহীন আলেম সাপের মতই বিপজ্জনক। শিক্ষার জন্য যদি সে তার সংস্পর্শে আসে, সুযোগ পেলেই সে তার ক্ষতি করবে। এটা সর্বজনবিদিত যে, একজন বিদ্বান ব্যক্তি যদি ভাল চরিত্রের হয় তবে পৃথিবী অসীম কল্যাণ লাভ করে এবং একজন খারাপ চরিত্রের শিক্ষিত হলে বিশ্বের সীমাহীন ক্ষতি হয়। তাই খারাপ লোক আলেম হলেও তার সঙ্গ কাম্য নয়।

মন্তব্যঃ বিদ্বান অথচ চরিত্রহীন ব্যক্তিকে অবশ্যই ত্যাগ করা উচিত। কারণ বিদ্বান হলেও তার কাছে গেলে নিজের চরিত্র নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য
আমাদের সাথে যুক্ত হতে লাইক দিন নববহ্নি পেজ এ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *