মধু খাওয়ার উপকারিতা ও কিছু নিয়ম জেনে নিন

Table of Contents

মধু খাওয়ার উপকারিতা

মৌমাছি, মৌমাছি ,
কোথা যাও নাচি নাচি ,
একবার দাড়াও না ভাই ।
ঐফুল ফোটে বনে ,
যাই মধু আহরণে ,
দাড়াবার সময় তো নাই ।

মধুর এই ছড়াটা আমাদের ছোট্টবেলায় বহুবার পড়া ও শোনা হয়েছে । শুধু মৌমাছি ই মধু আহরণ করে নাহ । মানুষ্ও মধুর আহরণে ছোটে । মৌমাছি ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে তার বাসায় সঞ্চয় করে রাখে । তা আবার চাক হতে মৌয়ালরা সংগ্রহ করে মানুষের খাবার উপযোগী করে বিক্রি করে ।মধুর চাহিদা যুগ যুগ থেকে । বর্তমান সময়ের এর চাহিদা প্রচুর । মধু শব্দটা শুনলেই বোঝা যায় তা কতটা আকর্ষণ করে সকলকে ।মধু খাওয়ার উপকারিতা

ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি;টবে ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি;ড্রাগন ফল দাম

মধুর উপকারিতা ও গুনাগুণ

মধুর উপকারিতা ও গুনাগুণ ব্যপক। আমাদের সুস্বাস্থ্য ও রোগ নিরাময়ের জন্য মধুর ব্যবহার অনেক মধু কখনো এককভাবে, আবার কখনো ভেষজ দ্রব্যের সঙ্গে মিশ্রিত করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় সফলতার সঙ্গে ব্যবহার হয়ে থাকে । সর্দি, কাশি ও স্বরভঙ্গে , আমাশয়ে , কোষ্ঠকাঠিন্য , যক্ষা , ক্ষত সারানো ছাড়াও বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে মধুর কার্যকারিতা অনেক ।মধু খাওয়ার উপকারিতা
যেমন,
১) কোমলমতি শিশুদের দৈহিক গড়ন, রুচি বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি ও পেট ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন এক চা চামচ মধু গরম দুধ ও গরম পানির সাথে একত্রে মিশিয়ে নাশতা ও রাতের খাবারের সঙ্গে দিতে হবে।
২) দুর্বল শিশুর ক্ষেত্রে এক ফোঁটা মধু দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খাওয়ালে তার স্বাস্থ্য ভালো হয় ও শক্তি লাভ করে।
৩) শরীরের বাইরের কোন অংশে যদি ক্ষত হয় । তাহলে ক্ষততে মধুর প্রলেপ লাগালে অনেক সময় মলমের চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
৪) পানিতে অল্প মধু মিশিয়ে খেলে তা পাকস্থলীর ক্ষত সারতে কাজ করে ।
৫) দূষিত বায়ু পেট থেকে বের করতে মৌরির পানিতে মধু মিশিয়ে পান করতে হয় ।
৬) মেদ কমাতে মধুর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে খেলে সুফল পাওয়া যায়।
মধু খাওয়ার উপকারিতা

৭) শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করতে এক কাপ দুধে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে সুফল পাওয়া যায় ।
৮) বমি বন্ধ করতে মধুর সঙ্গে গুড়ের রস মিশিয়ে খে্তে হবে ।
৯) চক্ষু রোগে এক ফোঁটা করে মধু দিনে ৩ বার চোখে লাগাতে হবে।
১০) যক্ষ্মা রোগের ক্ষেত্রে বাসক পাতার রস এক চা-চামচ পরিমাণ এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ আদার রস মিশিয়ে কিছু দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
১১) যক্ষ্মা রোগ ভালো হওয়ার জন্য- আধাতোলা পেঁয়াজের রস, ২৫০ গ্রাম ঘি এবং ২৫০ গ্রাম মধু মিশিয়ে একটা পাত্রে রেখে দিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল খেলে এবং প্রতি রাতে শোয়ার সময় তার সাথে চিনি মিশিয়ে অল্প পরিমাণ গরম দুধ খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে যক্ষ্মা ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ।
১২) মধু হৃদপিন্ডকে সতেজ করে। প্রতিদিন হাতের তালুতে অল্প পরিমাণ মধু নিয়ে চেটে খেলে হৃদরোগ থাকে না। (আল-হাদিস)
১৩) ‘উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি নিয়মিত সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপিন্ড শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া মধু আয়ুও বৃদ্ধি করে।’ (জার্মান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ই কচ)
১৪) ডায়রিয়াতে রাসূল (সা.) মধু খাওয়ানোর কথা বলছেন।
ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হলে খয়ের ও দারুচিনির গুঁড়া সমপরিমাণ একত্রে সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
১৫) পিপুল ও গোল মরিচের শুকনো গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিছু দিন নিয়মিত খেলে পুরাতন উদরাময় ভালো হয়ে যায়।
১৬) কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এক গ্লাস গরম দুধ বা গরম পানিতে ২চা-চামচ মধু মিশিয়ে কয়েকবার খেতে হবে।
মধু খাওয়ার উপকারিতা
ঘুম আসার উপায় ও রাতে দেরীতে ঘুমানোর কারণ ও অপকার

সর্দি, কাশি ও স্বরভঙ্গে ক্ষেত্রে

মধু খাওয়ার উপকারিতা
মধু খাওয়ার উপকারিতা
১) চায়ের সঙ্গে মধু ও আদার রস একত্রে মিশিয়ে খাওয়ানো হলে সর্দি ও শ্লেষ্মা রোগের উপশম হয় ।
ফর্মুলাঃ (১ চামচ মধু + ১ চামচ আদার রস)
২) দুই চা চামচের সমপরিমাণ মধু ও বাসকপাতার রস একত্রে মিশিয়ে খেলে সর্দি ও কাশি সেরে যায়।
৩) তুলসী পাতার এক চা চামচ রস ও সমপরিমাণ মধু একত্রে মিশিয়ে খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাশি দূর হয়।
৪) সৈন্ধব লবণ, আমলকী, পিপুল, মরিচ ইত্যাদির সাথে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে এক চা চামচ করে খেলে কফ ও স্বরভাঙ্গার উপশম হয় ।
৫) খাঁটি মধুর সাথে হরীতকী ও বচচূর্ণ একত্রে মিশিয়ে চেটে খেলে শ্বাসকষ্টের দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
৬) সর্দিকাশি দেখা দিলে ২ চা চামচ মধু ও ১ গ্লাস গরম দুধের সাথে একত্রে মিশিয়ে সকালে এবং সন্ধ্যায় খেলে সর্দিকাশি থাকে না ।
৭) হালকা গরম জলসহ মধু মিশিয়ে গড়গড়া করলে গায়কদের গলার স্বর বৃদ্ধি পায়। অনেকের মতে, এটা টনিকের মতো কাজ করে।
৮) এক চা চামচ আদার রস ও এক চা চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে সকাল এবং সন্ধ্যাবেলা খাওয়ানো হলে সর্দি সেরে যায় ও খিদে বৃদ্ধিপায়।

মধু খাওয়ার উপকারিতা

আমাশয়ের ক্ষেত্রে

যদি রক্ত মিশ্রিত পায়খানা , তৈলাক্ত পায়খানা এবং সাথে পেট কামড়ানিও থাকলে তাকে আমাশয় বলে।
১) কচি বেল ও আমগাছের কচি চামড়া; (বাকল) এক সঙ্গে বাটায় বেটে; গুড় ও মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়ে যায়।
২) কুল বা বড়ই গাছের ছাল চূর্ণের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়।
৩) ৫০০ গ্রাম আতপ চাল ভেজে গুঁড়া করে এর সঙ্গে ১২৫ গ্রাম ঘি, ২৫০ গ্রাম খাটি মধু, ১২৫ গ্রাম চিনি এবং ২০টি সবরি কলা ভালোভাবে মিশিয়ে (চটকে) জ্বাল দিয়ে খাবার উপযোগী করে নিয়ে ৩/৪ দিন নিয়মিত খাওয়ানো সব ধরনের আমাশয় থেকে উপশম পাওয়া যায় ।
মধু খাওয়ার উপকারিতা
মধুর উপকারিতা
নববহ্নি

সকালে খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা
মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
রাতে মধু খাওয়ার উপকারিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *