যেভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাড়িতে বা ছাদে পদ্ম ফুল চাষ করবেন

পদ্ম বা কমল
ইংরেজি নাম : Lotus
বৈজ্ঞানিক নাম : Nelumbo nucifera

পদ্ম ফুল

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রত্যেক ঋতুতেই এদেশের প্রকৃতি সাজে তার আপন স্বকীয়তায়। বৈচিত্র্যময় এই প্রকৃতির রূপ বর্ষায় বৃক্ষরাজি ছাড়িয়ে সতেজতা ছড়ায় এদেশের বুক চিরে বয়ে যাওয়া হাওর-বাওর বিল-ঝিলে। প্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে আপন শুভ্রতা ছড়িয়ে দেয় পদ্ম ফুল ।
ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি;টবে ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি;ড্রাগন ফল দাম
মধু খাওয়ার উপকারিতা ও কিছু নিয়ম জেনে নিন
সূর্যমুখী ফুল চাষ পদ্ধতি; সূর্যমুখী ফুল চাষাবাদ

বিল-ঝিল বা পুকুর থেকে বিলুপ্তপ্রায় এই পদ্ম এখন শুভ্রতা ছড়াচ্ছে মানুষের বাড়ির ছাদে কিংবা কারও উঠানে। ছাদবাগানে এবং নার্সারিগুলোতে নিজের জায়গা করে নিয়েছে এই Nelumbonaceae ফ্যামিলির ফুলটি। এটি শুধু ফুল হিসেবেই সৌন্দর্য বর্ধন করে না বরং এর ফুল এবং পাতার রয়েছে অসাধারণ ঔষধি গুন ।

আরও পড়ুনঃ নীল নদ দক্ষিণ থেকে উত্তরে
পদ্ম ফুল

চাষ পদ্ধতি:

পদ্ম টিউবার, রাইজোম কিংবা বীজ থেকে বংশ বৃদ্ধি করে থাকে।
পদ্ম ফুল
টিউবার, রাইজোম থেকে চাষ করতে চাইলে একাধিক নোডসযুক্ত টিউবার বা রাইজোম বাছাই করতে হবে এবং মাটি প্রস্তুত করতে হবে । পদ্মের জন্য দোঁয়াশ মাটি ভালো হবে এবং এর সাথে ৩০ ভাগ জৈব সার মেশাতে হবে । সরাসরি পুকুরের মাটিও ব্যাবহার করা যে
যাবে । যে পাত্রে চাষ করা হবে সেই পাত্র মোটামুটি ১৫ সেন্টিমিটার মতো মাটি ভরাট করে নিতে হবে । পাত্রের নিচে কোনো ছিদ্র করার প্রয়োজন হবে না । ৩-৪ সেন্টিমিটার গভীরে টিউবার ,রাইজোম টি গেঁথে দিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে পাত্রটিতে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি দ্বারা ভরাট করতে হবে। পাত্রটি অর্ধদিবস রোদ পড়ে এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে কিছুটা সময় রোদ পায় । পাত্রের পানি কমে গেলে নতুন করে পানি দিতে হবে । গ্রীষ্ম-বর্ষা পদ্মের জন্য উপযুক্ত সময় ।

এর পর

বীজ থেকে পদ্ম করতে চাইলে প্রথমেই ভায়াবল সীড সংগ্রহ করতে হবে । বর্তমানে নার্সারিগুলো থেকে সহজেই পদ্ম সীড সংগ্রহ করা যায় ; অথবা শুকনো পদ্ম ফুল থেকেও বীজ সংগ্রহ করা যেতে পারে ।

পদ্ম বীজের সীডকোট অনেক শক্ত হওয়ায় ; কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করে এর বাইরের অংশে ফাটল তৈরি করে নিতে হবে ; অথবা বীজের যেদিকে কাঁটার মতো আছে ; তার উল্টো দিকে চার ভাগের এক ভাগ ঘসে সাদা অংশ বের করতে হবে । বীজগুলোকে একটি পানির পাত্রে রেখে দিতে হবে । সাধারনত যে বীজগুলো ভেসে উঠবে সেগুলো অঙ্কুরোদগম হবে না । পাত্রের পানি দিনে দুবার পরিবর্তন করতে হবে এবং মাঝে মাঝে পানি এবং বীজসহ পাত্র রোদে রাখতে হবে । ৮-১০ দিনের মধ্যেই বীজের চারা রোপণের উপযোগী হবে । এরপর মাটি প্রস্তুত করতে হবে । পদ্মের জন্য দোঁয়াশ মাটি ভালো হবে এবং এতে ৩০ ভাগ জৈব সার মেশাতে হবে । সরাসরি পুকুরের মাটিও ব্যাবহার করা যেতে পারে । যে পাত্রে চাষ করা হবে সেই পাত্র মোটামুটি ১৫ সেন্টিমিটার মতো মাটি ভরাট করে নিতে হবে । ৩-৪ সেন্টিমিটার গভীরে নতুন চারাটি রোপন করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে পাত্রটিতে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি দিতে হবে । পাত্রটি অর্ধদিবস রোদ পড়ে এমন জায়গায় রাখতে হবে । পাত্রের পানি কমে গেলে পানি দিতে হবে ।

রোপন পরবর্তী ব্যাবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন :

মথ অথবা ক্যাটারপিলারের আক্রমণ হতে পারে । এরা সাধারনত খুবই দ্রুত পাতা খেয়ে ফেলে ।
এর জন্য পাউডার জাতীয় কীটনাশক পাতার উপরে দিতে হবে ; এবং লিকুইড কীটনাশক কোনোক্রমেই দেয়া যাবে না ।
পদ্ম ফুল

পাতা হঠাৎ শুকিয়ে কালো হয়ে যেতে পারে ; এজন্য এক চা চামচ কপার সালফেট এক লিটার পানিতে মিশিয়ে পদ্মের পানিতে ঢেলে দিরে হবে ।
নিউট্রিয়েন্ট এর জন্য ট্যাবলেট সার পাত্রের মাটিতে পুঁতে দেয়া যেতে পারে ; অথবা N P K সার খুবই সামান্য পরিমাণ পাত্রের মাটিতে পুঁতে দেয়া যেতে পারে ।

এভাবে আমরা একটি বড় বিল অথবা পুকুরকে আমরা আমাদের বারান্দায় উঠানে বা ছাদে অবলীলায় জায়গা করে দিতে পারি।
পদ্ম ফুল

লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজ নব বহ্নি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *