সেনা শাসনের বেড়া জালে মিয়ানমার

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী ব্রিটিশ ;ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয় মিয়ানমার। এরপর আরও প্রায় ৫০ বছর সেনা শাসনের মধ্য দিয়ে গেছে দেশটি। আবারও ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনা বাহিনী ; পুরো দেশ দখলে নিয়ে নেয়। কেন মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর এত ;হস্তক্ষেপ তা নিয়েই আলোচনা। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন।

Table of Contents

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী প্রতিষ্ঠিত ১৯৪৫ সালে। এ বাহিনী তাতমাডো নামে পরিচিত ছিল। যারা সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী নিয়ে গঠিত ছিল। দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা ছিলেন অং সান, একই সাথে তিনি সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা। মিয়ানমার স্বাধীন হওয়ার ছয় মাস আগে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর উ ন’র নেতৃত্বে সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়; ও জেনারেল নে উইন হন সেনাবাহিনীর কমান্ডার।

১৯৫৮ সালে লে উইন ক্ষমতাসীন সরকারকে সরিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে। ১৯৬০ এর আইনসভা নির্বাচনে উ নু’র দল জয়লাভ করলেও ;নে উইন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে। শুরু হয় মিয়ানমারে সেনা শাসন। চলে একাধারে ৫০ বছর।

লে উইন বার্মা ১৯৬২ সালে সোশালিস্ট প্রোগ্রাম পার্টি গঠন করে; ও দেশের একমাত্র বৈধ দল হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭৪ সালে নতুন সংবিধান কার্যকর করেন; ও নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৮৭ সালে মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে সরকার বিরোধী আন্দোলন হয় ;ও ক্ষমতা জেনারেল স মংয়ের কাছে চলে যায়।

অং সান সু চি’র নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি গঠিত হয়। ১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সু চি’র দল জয়লাভ করলেও সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করে নি। ১৯৯৩ সালে সেনা সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনী গঠিন করা হয়। যারা USDA নামে পরিচিত ছিল। ২০১০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় USDP নামে। এটি সেনাবাহিনীর দল নামেও পরিচিত ছিল।

আরো পড়তে পারেন উপসাগরীয় যুদ্ধ (ইরাক থেকে কুয়েত দখলমুক্তি)

জ্বালানী তেলের উপর ভর্তুকি তুলে নিলে বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের বিক্ষোভ শুরু হয় ২০০৮ সালে । যা Safforn Revolation নামেও পরিচিত। এ বছরই সেনাবাহিনী নতুন সংবিধান জারি করে। সংবিধানে সেনাবাহিনীর জন্য দেশটির পার্লামেন্টে ২৫% আসন বরাদ্ধ রাখা হয়। এ ছাড়াও রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্ব পূর্ণ মন্ত্রনালয় ( প্রতিরক্ষা, সীমান্ত ও স্বারাষ্ট্র) সেনাবাহিনীর হাতে। সংবিধানের যে কোন আইন প্রনয়ণ করতে সেবাবাহিনীর সমর্থন প্রয়োজন হয়।২০১১ সালে সামরিক সরকার পদত্যাগ করলে প্রায় ৫০ বছরের সেনা শাসনের অবসান ঘটে। ২০১২ সালে আইনসভার নির্বাচনে ৪৫ টি আসনের মধ্যে ৪৩ টি আসন পেয়ে সু চি’র দল NDL জয়লাভ করে।

সু চি’র দল আবারো ২০১৫ সালে NDL ঐতিহাসিক জয় পায়। কিন্তু স্বামী সন্তান বিদেশী হওয়ায় তিনি সংবিধানের নিয়ম অনুসারে; প্রেসিডেন্ট হতে পারেন নি। ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করলেও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে ব্যাপক সমালোচিত হন।

২০২১ সালের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ খারিজ করে আদালত । এর প্রেক্ষিতে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ এ সামরিক বাহিনী ক্ষ্মতা দখল করে। সুচিকে আবার আটক করা হয়। ক্ষ্মতা দখল করেন ;সেনাপ্রধান জেনারেল মিং অং। তিনি ক্ষমতা দখল করে এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

এই ভাবে সেনাবাহিনী দীর্ঘ ক্ষ্মতায় থাকার কারণে; তারা সাংবিধানিক ভাবে নিজেদের ক্ষমতা মিয়ানমারের রাজনীতিতে; শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

আসাদের ফলো করতে পারেন নববহ্নি

Check Also

পহেলা বৈশাখ

বাংলা পহেলা বৈশাখ ও বাঙালির চেতনা ও সংষ্কৃতি

বাংলা পহেলা বৈশাখ লোক সমাজের সাথে নাগরিক জীবনের সেতুবন্ধন পহেলা বৈশাখ। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জীবনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *