শ্রমের মর্যাদা রচনা Dignity Of Labor Essay

শ্রমের মর্যাদা রচনা Dignity Of Labor Essay

শ্রমের মর্যাদা রচনা

ভূমিকা:

জগতে প্রতিটি জিনিসেরই মর্যাদা রয়েছে । প্রতিটি জিনিসের ব্যবহার ও উপযোগিতা অনুসারে এটি মর্যাদাপূর্ণ । শ্রম হচ্ছে জীবনের সাফল্যের সবচেয়ে মূল্যবান শক্তিশালী উপাদান ।

শ্রমের প্রকারভেদ:

শ্রম দুই ধরনের হয়ে থাকে – কায়িক কায়িক শ্রম ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম । কাজভেদে উভয় ধরনের শ্রমেরই নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত , আমাদের সমাজে অধিকাংশ শিক্ষিত ব্যক্তিদের কায়িক শ্রম সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। যার ফলস্বরূপ, তারা কায়িক শ্রমের কাজে নিয়োজিত লোকদের অবজ্ঞা করে থাকে । এই ধরনের প্রেক্ষাপটে আমাদের মনে রাখা উচিত যে, কায়িক শ্রম ছাড়া শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম দ্বারা সাফল্য লাভ সম্ভব নয়’ ।

শ্রমের মর্যাদা রচনা

শ্রমের মর্যাদা রচনা Dignity of labor
শ্রমের মর্যাদা রচনা Dignity of labor

শ্রমের মর্যাদা রচনা

কায়িক শ্রম:

আমাদের সকলের জীবিকা নির্বাহের মূলে রয়েছে কায়িক শ্রম । খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র এবং ঘর যা ছাড়া আমরা কোনো ভাবেই বাঁচতে পারি না সবই কায়িক শ্রমের থেকে আসে । কায়িক শ্রম যা লাঙ্গল চালায় এবং ফসল কাটে । এটি ভুট্টা পিষে রুটিতে পরিণত করে, ধান থেকে চাল হয় । চরকা সুতো ঘোরায় এবং আমাদের কাপড় বুনে । রাজমিস্ত্রিরা ইটের উপর ইট বিছিয়ে আমাদের ঘর তৈরি করে । কায়িক-শ্রমিকরা হচ্ছে একটি জাতির মেরুদন্ড । পশ্চিমাবিশ্বের দেশগুলিতে মানুষেরা তাদের নিজের সমস্ত গৃহস্থালির কাজ নিজেরাই করে। তারা নিজেরদের ঘরের মেঝে পরিষ্কার করে এবং নিজেদের বাথরুম নিজেই ধোয় । তাদের লাগেজ ব্যাগ বস্তা বহন করার জন্য কোনো কুলি থাকে না । প্রত্যেক যাত্রীকে তাদের নিজের ব্যাগ বহন করতে হয় । একজন ছুতোর, একজন রাজমিস্ত্রি, একজন কৃষক, একজন ইলেকট্রিশিয়ান বাঁ যে কোনো শ্রমজী্বীর নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে।

বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম:

বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম অনেকের কাছে অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ। অফিস, ব্যাঙ্ক, বীমা কোম্পানি ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় কাজ করাকে বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম বলে গণ্য করা হয়। যদিও এতেও কায়িক শ্রমের ছোঁয়া রয়েছে । এর ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশ ও জাতির উন্নয়ন। বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ইত্যাদিকে বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম ধরা হয় । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে এখনও অনেক মানুষ আছে যারা মনে করে যে কায়িক শ্রম মর্যাদাপূর্ণ নয় । এটা ভাবাও হাস্যকর যে কৃষি, উদ্যান, ছুতোর, মৃৎশিল্প, টেইলারিং, বই বাঁধাই, চরকা, তাঁত, দুগ্ধ, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাতের কাজের চেয়ে কেরানির চাকরি বেশি মর্যাদাপূর্ণ আমাদের সমাজে । এই মিথ্যা ধারণাটি এ সমাজ হতে পরিবর্তন করা উচিত। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ । প্রকৃতপক্ষে, শ্রমের এই মর্যাদা আমাদের দেশে বড় আকার ধারণ করা বেকারত্বের সমস্যা মোকাবেলার জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে ।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষা সফর রচনা শিক্ষাসফরের গুরুত্ব(২টি রচনা) শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা

শ্রমের গুরুত্ব:

প্রতিটি দেশ ও জাতিতে শ্রমের মর্যাদা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না যতক্ষণ না তার জনগণ শ্রম দেয়। আমরা যদি উন্নত দেশগুলির কথা বিবেচনা করি তবে আমরা দেখতে পাই যে সেসব দেশের মানুষ শ্রমের প্রতি কখনও দ্বিধা করেনি বরং কঠোর পরিশ্রম করেছে। যে কোনো ধরনের শ্রম মর্যাদাপূর্ণ কারণ এটি সমাজকে সবকিছুই দিতে পারে । দেশের উন্নয়ন মূলত শ্রমের উপর নির্ভর করে থাকে । পৃথিবীর সকল মহাপুরুষ কঠোর পরিশ্রম করে আত্মমর্যাদা ও সাফল্য অর্জন করেছেন ।

কর্মসংস্থান প্রদান করা কঠিন:

আমরা কখনই আশা করতে পারি না যে প্রতিটি শিক্ষিত যুবককে একটি অফিসে , কর্মস্থলে বা ব্যাংকে একটি চেয়ার, একটি টেবিল এবং একটি ফ্যান বাঁ এসি সহ একটি নিরাপদ এবং আরামদায়ক চাকরি দেওয়া হবে । আমাদের অবশ্যই মানতে হবে যে, কোনো সরকারই সব বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান দিতে পারবে না।

শ্রম মর্যাদা সকলকে দেয়:

আমাদের সকলকে আত্মনির্ভরশীলতা এবং শ্রমের মর্যাদাই বেকার সমস্যা সমাধানের একমাত্র যুক্তিসঙ্গত পথ বাঁ উপায় হতে পারে । আমাদের মনে রাখা উচিত যে, স্রষ্টা আমাদের শুধু মাথা নয়, দেহে হাতও দিয়েছেন । আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্য এই উপহারগুলির সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার করা উচিত । তদুপরি , যারা বুদ্ধিবৃত্তিক চাকরিতে নিয়োজিত তাদেরও স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনের জন্য উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অবশ্যই কিছু কায়িক কাজ করা উচিত।

শ্রমের মর্যাদা শেখানো:

আমাদের সমাজে কায়িক শ্রমের একটি আদর্শ অবস্থান থাকা অত্যাবশ্যক । এ জন্য সকলকে ছোটবেলা থেকেই শ্রমের মর্যাদা শেখাতে হবে । প্রতিটি শিশুকে যদি যতটা সম্ভব তার নিজের কাজ নিজে করতে বলা হয়, তা ভবিষ্যতের জীবন সংগ্রামের জন্য ভালো হবে। আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত যে কাজটি ইবাদত এবং এইভাবে, শ্রমের মর্যাদা তার যথাযথ গুরুত্বের সাথে অবশ্যই স্বীকৃত হওয়া উচিত।

উপসংহার:

যেকোনো ধরনের শ্রম অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে অনেক বেশি কিছু দেয়। যে কোনো শ্রম একটি ব্যক্তি এবং একটি জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সহায়তা করে।

আমাদের সাথে ফেসবুকে যুক্ত থাকতে চাইলে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেজ নববহ্নি তে

শ্রমের মর্যাদা রচনা Dignity Of Labor Essay

Check Also

বৃষ্টি নিয়ে কবিতা

বৃষ্টি নিয়ে কবিতা। জীবন নিয়ে কবিতা

বৃষ্টি নিয়ে কবিতা ০১ কবিতা লিখেছেন: আতিক সিয়াম একটু বৃষ্টির প্রার্থনায় তপ্ত দুপুর ঘামে ভেজা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *